সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ধর্মমঙ্গল কাব্য লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ধর্মমঙ্গল কাব্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরো।

 ★ধর্মমঙ্গল কাব্যের ঐতিহাসিকতা :– ধর্মমঙ্গলের কাহিনির পেছনে যে ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু রয়েছে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাল বংশের সমাপ্তি পর্বকে এই কাহিনির পটভূমি হিসাবে মনে করা হয়। এই কাহিনির ইছাই ঘোষ, লাউসেন ঐতিহাসিক ব্যক্তি। এই কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহজনিত উত্তেজনামূলক ঘটনা প্রাচুর্যময় বাংলার ঘটনাকেই সূচিত করে। ধর্মঠাকুরের উৎসব কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের উৎসব। অন্যান্য মঙ্গলকাব্যে সাধারণ বাঙালির যে মেরুদণ্ডহীন নমনীয়তা দেবতার অভিপ্রায়ের কাছে সমর্পিত হয়েছে, তার বিপরীত রূপটিই এখানে প্রকাশিত। ধর্মমঙ্গলে রাঢ়ের রাজনৈতিক জীবনযাত্রা ও তার নিম্নশ্রেণির নর-নারীর মহিমান্বিত দেশাত্মবোধের যে উজ্জ্বল রসসমৃদ্ধ চিত্র আমরা পাই তাতে একে রাঢ়ের জাতীয় কাব্য রূপে অভিহিত করা যায়।

ধর্মমঙ্গল কাব্য কে কেন রাঢ়ের জাতীয় মহাকাব্য বলে অভিহিত করা হয় ??

ধর্মমঙ্গল বিষয়বস্তুর প্রাচীনত্বে ও বিভিন্ন ধর্মমতের সমন্বয় প্রয়াসের প্রত্যক্ষ নিদর্শন রূপে ধর্মমঙ্গল কাব্যই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মধ্যযুগীয় দৈব নির্ভরতাবাদী মঙ্গলকাব্য ধারায় ধর্মমঙ্গলের স্থান কিছুটা ভিন্ন ধরনের। এই স্বাতন্ত্র্য্য মূলত ধর্মঠাকুরের স্বরূপে, ভৌগোলিক অবস্থানে এবং বিষয়বস্তুর বর্ণনা ভঙ্গিমায়। তাই এই কাব্য নিয়ে নানা দাবী উপস্থাপিত হয়েছে। এমনও দাবী করা হয়েছে যে ধর্মমঙ্গল রাঢ়ের জাতীয় কাব্য। ★ধর্মমঙ্গল কাব্যের ঐতিহাসিকতা :– ধর্মমঙ্গলের কাহিনির পেছনে যে ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু রয়েছে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাল বংশের সমাপ্তি পর্বকে এই কাহিনির পটভূমি হিসাবে মনে করা হয়। এই কাহিনির ইছাই ঘোষ, লাউসেন ঐতিহাসিক ব্যক্তি। এই কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহজনিত উত্তেজনামূলক ঘটনা প্রাচুর্যময় বাংলার ঘটনাকেই সূচিত করে। ধর্মঠাকুরের উৎসব কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের উৎসব। অন্যান্য মঙ্গলকাব্যে সাধারণ বাঙালির যে মেরুদণ্ডহীন নমনীয়তা দেবতার অভিপ্রায়ের কাছে সমর্পিত হয়েছে, তার বিপরীত রূপটিই এখানে প্রকাশিত। ধর্মমঙ্গলে রাঢ়ের রাজনৈতিক জীবনযাত্রা ও তার নিম্নশ্রেণির নর-নারীর মহিমান্বিত দেশাত্মবোধের যে...

ধর্মমঙ্গল কাব্যের অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ কবি ও তাঁর কৃতিত্বের পরিচয় দাও।।।।

         ■ অষ্টাদশ শতাব্দী – শ্রেষ্ঠ কবি                    • ঘনরাম চক্রবর্তী ধর্মমঙ্গল কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জনপ্রিয় কবি হলেন ঘনরাম চক্রবর্তী। ঘনরাম অষ্টাদশ শতাব্দীর শক্তিমান কবি। মঙ্গলকাব্যের ঐশ্বর্যযুগের শেষ পর্যায়ে রামেশ্বর ভট্টাচার্যের শিবায়ন, ঘনরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল এবং ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল নির্বাণোন্মুখ দীপশিখার মতো সর্বশেষ জ্যোতি।  সুকুমার সেন লিখেছেন,– “ধর্মমঙ্গল রচয়িতাদের মধ্যে সবচেয়ে শিক্ষিত ও দক্ষ ছিলেন ঘনরাম চক্রবর্তী। ঘনরাম সুলেখক ছিলেন। তাঁহার রচনা সর্বাধিক পরিচিত ধর্মমঙ্গল কাব্য”। ( বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১৫১ )।  অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ও লিখেছেন, –“আধুনিক যুগের বাঙালী সমাজ তাঁহার কাব্য হইতেই ধর্মমঙ্গল কাব্যের নূতনত্ব উপলব্ধি করিয়াছিলেন। এই শাখার অন্যান্য শক্তিশালী কবি অপেক্ষা ঘনরাম অধিকতর ভাগ্যবান। কারণ ধর্মমঙ্গলের কবিদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মার্জিত রুচির নাগরিক সমাজে পরিচিত হন। ( বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, তৃতীয় খণ্ড, দ্বিতীয় পর্ব, পৃষ্ঠা-৯৮ ...

ধর্মমঙ্গল কাব্যে ধর্মদেবতার উদ্ভব সম্পর্কে আলোচনা করো। |

বিষয়বস্তুর প্রাচীনত্বে ও বিভিন্ন ধর্মমতের সমন্বয় প্রয়াসের প্রত্যক্ষ নিদর্শন রূপে ধর্মমঙ্গল কাব্যই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মধ্যযুগীয় দৈব নির্ভরতাবাদী মঙ্গলকাব্য ধারায় ধর্মমঙ্গলের স্থান কিছুটা ভিন্ন ধরনের। এই স্বাতন্ত্র্য্য মূলত ধর্মঠাকুরের স্বরূপে, ভৌগোলিক অবস্থানে এবং বিষয়বস্তুর বর্ণনা ভঙ্গিমায়। তাই এই কাব্য নিয়ে নানা দাবী উপস্থাপিত হয়েছে। এমনও দাবী করা হয়েছে যে ধর্মমঙ্গল রাঢ়ের জাতীয় কাব্য। ★ ধর্মদেবতার স্বরূপ/উদ্ভব :- পশ্চিম ও দক্ষিণ বাংলার অনেক গ্রামে এখনও ধর্মের থান, মন্দির ও আস্তানা আছে। বহু মন্দিরে ধর্মের কোনো মূর্তি নেই। তার শিলামূর্তি বেদির উপর প্রতিষ্ঠিত। এই মূর্তি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম। সে যাই হোক, ধর্মঠাকুরের উদ্ভবের পেছনে লৌকিক ও পৌরাণিক সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটেছে। যেমন— 1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে ধর্মঠাকুর প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ দেবতা। 2. ক্ষিতীশ প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের মতে—ধর্মঠাকুর বৌদ্ধ দেবতা নয়, তিনি বৈদিক সূর্য দেবতা। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের সূক্তের সঙ্গে ধর্মমঙ্গলের সৃষ্টিতত্ত্বের গভীর সাদৃশ্য আছে। 3. সুকুমার সেনের মতে, ধর্মঠাকুর একটি মিশ্র দেবতা। বৈদিক ধর্মাচার, ...

ধর্মমঙ্গল কাব্যের বৈশিষ্ট্য(সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য) আলোচনা কর।

  ★ ধর্মমঙ্গল কাব্যের বৈশিষ্ট্যঃ–  মঙ্গলকাব্য ধারায় ধর্মমঙ্গলের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য লক্ষ করার মতো। * সাদৃশ্য– ১. মঙ্গলকাব্য সমূহের ধারা অনুসারে এই কাব্যের নামকরণ ধর্মমঙ্গল এবং এই কাব্যে দেবতার মাহাত্ম্য প্রচারই মঙ্গলকাব্যের স্বরূপকে ফুটিয়ে তোলে।  ২. অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের মতো অলৌকিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে নায়ক চরিত্রের দৃঢ়তার প্রকাশ এখানে বর্তমান। ৩. রচনাংশে কবির আত্মপরিচয়জ্ঞাপক পদ এবং সমাপ্তিতে দেবদেবীর মাহাত্ম্য প্রচারের পর নায়ক-নায়িকার স্বর্গারোহণ মঙ্গলকাব্যের ধারার মতো এখানেও অনুসৃত হয়েছে। ৪. বিভিন্ন লৌকিক বর্ণনা, সমাজ মানসিকতার পরিচয়, রাজানুগ্রহ, স্বপ্নাদেশ, পালাবদ্ধ গীত রচনা প্রভৃতি দিক থেকে মঙ্গলকাব্যের ধারার সঙ্গে এই কাব্যের নিগূঢ় যোগ রয়েছে। * বৈসাদৃশ্য– ১. ধর্মঠাকুর হল পুরুষ দেবতা। কিন্তু চণ্ডীমঙ্গল ও মনসামঙ্গলে স্ত্রী দেবতা। ২. চণ্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল বৃহৎ বঙ্গে প্রচলিত থাকলেও ধর্মমঙ্গল শুধুমাত্র রাঢ় অঞ্চলের কাব্য। ৩. আর কোনো দেবতার পূজায় জাতিভেদ বিড়ম্বিত হিন্দু সমাজ এত ভেদবুদ্ধিহীন সর্বজনীন ভক্তির আশ্রয়ে ঐক্যের স্ফূরণ অনুভব করেনি। আর কোন দেবতার পূজায...

ধর্মমঙ্গল কাব্যের কাহিনী সংক্ষেপ আলোচনা করো।

  ★ধর্মমঙ্গলের কাহিনি:– ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি—হরিশ্চন্দ্র ও লাউসেনের কাহিনি।   ১. হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি:– রাজা হরিশ্চন্দ্র ও তার রানি মদনা নিঃসন্তান হওয়ায় সমাজে লোকনিন্দার ভয়ে মনের দুঃখে ঘুরতে ঘুরতে বল্লুকা নদীর তীরে উপস্থিত হয়ে দেখেন সেখানে ধর্মঠাকুরের ভক্তেরা ঘটা করে দেবতার পূজা করছেন। রাজা ও রানি তাদের কাছে ধর্মঠাকুরের। মাহাত্ম্য শুনে ধর্মঠাকুরের পূজার্চনা করে শর্তসাপেক্ষে বর লাভ করেন। শর্ত হল এই তাদের পুত্রকে ধর্মঠাকুরের কাছে বলি দিতে হবে। যথাসময়ে মদনার পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। রাজা ও রানি পুত্রকে পেয়ে ধর্মঠাকুরের কাছে বলি দেওয়ার পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ধর্মঠাকুর ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে একদিন হরিশ্চন্দ্রের কাছে উপস্থিত হন। সেদিন ছিল। একাদশীর পারণ; ছদ্মবেশী ব্রাহ্মণ রাজপুত্র লুইধরের মাংস আহার করতে চাইলে রাজা ও রানি পুত্রকে বধ করে তার মাংস রান্না করলেন। রাজা ও রানির এই আনুগত্য ও নিষ্ঠায় সন্তুষ্ট হয়ে ধর্মঠাকুর লুইধরকে জীবিত করে পুনরায় রাজা-রানির কাছে ফিরিয়ে দেন। এরপর রাজা ও রানির প্রচেষ্টায় ধর্মঠাকুরের পূজা মহাসমারোহে আয়োজিত হতে থাকে। ২. লাউসেনের কাহিনি:...

সীতারাম দাস– সপ্তাদশ শতাব্দীর বা উত্তর-চৈতন্য যুগ-এর ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি – সংক্ষিপ্ত পরিচয় ।।

  সীতারাম দাস :-           ১০০৪ মল্লাব্দ অর্থাৎ ১৬৯৮-৯৯ খ্রীঃ অব্দে সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন। তাঁর অষ্টাদশ শতকের অনেকগুলি খণ্ডিত পুঁথি পাওয়া গেছে। তাতে কবির আত্মকাহিনীটুকু কিঞ্চিৎ বৈচিত্র্যমণ্ডিত হয়েছে। বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস গ্রামে মাতুলালয়ে কবির জন্ম—এই গ্রামে ধর্মঠাকুরের মন্দির আজও প্রসিদ্ধ। সুখসাগর গ্রামে তার নিজবাড়ি, পিতার নাম দেবীদাস, মাতার নাম কেশবতী। কবি প্রথমে ডোমের ঠাকুর ধর্মের পূজা করতে ও নাম প্রচার করতে কিছু সংকুচিত হয়েছিলেন। কারণ তখন উচ্চবর্ণের সমাজে ধর্মের ততটা প্রচার ছিল না। কিন্তু স্বপ্নে ধর্মের প্রত্যাদেশ পেয়ে কবি সাহস করে ধর্মের মহিমাবিষয়ক কাব্য লিখলেন। এই কাব্যটি সমাপ্ত করতে কবির মোট চল্লিশ দিন লেগেছিল। কবির আত্মকাহিনীটি বেশ বাস্তব বলে মনে হয়। কাব্যারম্ভে কবি মাঝে মাঝে ময়ূরভট্টের নাম করেছেন। তার মতে ময়ূরভট্ট প্রকৃতই ধর্মমঙ্গল লিখেছিলেন, কিন্তু কালক্রমে সেই কাব্যের কিছু কিছু নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা কবির এ মন্তব্য প্রমাণাভাবে মেনে নিতে অপারগ। বোধ হয় তিনি জনশ্রুতিতে ময়ূরভট্টের নাম শুনেছিলেন, তাই রচনার মধ্য...

কবি রামদাস আদক– সপ্তাদশ শতাব্দীর বা উত্তর-চৈতন্য যুগ-এর ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি - সংক্ষিপ্ত পরিচয় ।।

 => রামদাস আদক :-   সপ্তদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত এই কবি গতানুগতিক পথে যৎকিঞ্চিৎ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। অধ্যাপক বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রায় তেত্রিশ বৎসর পূর্বে রামদাসের *‘অনাদিমঙ্গল’* সম্পাদনা করেছিলেন। অবশ্য বসন্তকুমার রামদাস আদকের বংশধরদের মুখ থেকে শুনে কাব্যের অধিকাংশ লিখে নিয়েছিলেন। তাঁর সম্পাদিত কাব্যের মূল কিন্তু কোনো পুঁথি নয়, লোকের মুখ থেকে শোনা পয়ার-ত্রিপদী। অবশ্য তিনি একখানি খাতাও উপাদান হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন। আধুনিক যুগের ধর্মের গায়কেরা ঐ খাতা থেকে গান গাইতেন। কাজেই রামদাস আদকের মুদ্রিত 'অনাদিমঙ্গল’ সর্বাংশে প্রাচীন কি না সে বিষয়ে ঘোরতর সন্দেহ হয়। কাব্যের প্রারম্ভে ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রথামতো কবি আত্মকথা বর্ণনা করেছেন বেশ ফলাও করে। আরামবাগের নিকটে এক গ্রামে চাষী-কৈবর্ত বংশে কবির জন্ম হয়। জমিদারের দ্বারা উৎপীড়িত হয়ে তিনি যখন মাতুলালয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন পথিমধ্যে বিপন্ন কবির কাছে ধর্মঠাকুর আবির্ভূত হয়ে বললেন যে, তিনি হচ্ছেন ঝাড়গ্রামের ধর্মঠাকুর কালুরায়। কবিকে তিনি ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করতে আদেশ করলেন। কিন্তু কৰি যে মুর্খ।  তখন শঙ্খচক্রগদাপদ...

শ্যামপন্ডিত –সপ্তাদশ শতাব্দীর বা উত্তর-চৈতন্য যুগ-এর ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি – সংক্ষিপ্ত পরিচয় ।।

  শ্যামপণ্ডিত :-    ইনি ভণিতায় শ্রীশ্যামপণ্ডিত বলে নিজেকে উল্লেখ করেছেন। তার কাব্য 'নিরঞ্জনমঙ্গল' নামে অধিকতর পরিচিত। 'পণ্ডিত' উপাধি দেখে মনে হয়, কবি ডোমের ব্রাহ্মণ ছিলেন। কাব্যের মধ্যে দু-চারটি এমন স্থানীয় ব্যাপারের উল্লেখ আছে যে, এঁকে বীরভূমের অধিবাসী বলে মনে হয়। একখানি পুঁথিতে ১৬২৫ শকাব্দের উল্লেখ আছে বলে কেউ কেউ মনে করেন, ১৭০৩-১৭০৪ খ্রীঃ অব্দে কাব্যটি সমাপ্ত হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে নিশ্চয় করে কিছু বলা যায় না। ভাষা দেখে তাকে বেশি পুরাতন বলে মনে হয় না। এখনও বর্ধমান অঞ্চলে ধর্মের গাজনের সময় তাঁর কাব্য পড়া হয়। তার পুঁথিগুলি খুব বিশুদ্ধ নয়, কারণ তাতে অন্য কবির ভণিতাও আছে। কবির কাব্যটি বিশেষ কোনো দিক দিয়ে উল্লেখযোগ্য নয়। ভাষা, কাহিনী প্রভৃতি একেবারে 'জলবত্তরলং’ ধরনের। সুতরাং এখানে এই ধরনের সাহিত্যগুণবর্জিত পুঁথি সম্বন্ধে বেশি আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।                 ধর্মের ব্রত-পূজা, ধর্ম-সেবক সম্প্রদায়, ধর্মপুরাণ ও ধর্মমঙ্গলের কাহিনী এবং কবি-পরিচয় ইত্যাদি আলোচনা করে দেখা গেল, প্রাগার্য যুগ থেকে এ দেশে এই ধরনের শিলামূর্ত...

কবি যদুনাথ (যাদবনাথ) –সপ্তাদশ শতাব্দীর বা উত্তর-চৈতন্য যুগ-এর ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি –সংক্ষিপ্ত পরিচয় ।।

  যদুনাথ (যাদবনাথ) :– কিছুকাল পূর্বে বিশ্বভারতী থেকে ড. পঞ্চানন মণ্ডলের সম্পাদনায় আর একখানি নতুন ধর্মমঙ্গল কাব্য প্রকাশিত হয়েছে। কবির নাম যদুনাথ বা যাদবনাথ। মনে হয় ইনি হাওড়া জেলার লোক, কারণ পুঁথিটি হাওড়া জেলার একটি গ্রাম থেকে পাওয়া গেছে। সৌভাগ্যের বিষয় পুঁথিটি অখণ্ডিত ও সম্পূর্ণ।          কাব্যের মধ্যে কবি নিজের সম্বন্ধে যে যৎসামান্য ইঙ্গিত দিয়েছেন তা থেকে দেখা যাচ্ছে, শোভা সিং নামে এক বিদ্রোহী দুর্দান্ত জমিদার বর্ধমানের মহারাজা কৃষ্ণরামকে নিহত করে তার কন্যার ওপর অত্যাচার করতে গিয়ে সেই রাজকুমারীর ছুরিকাঘাতে ভবলীলা সাঙ্গ করে—এটি ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ঘটনা।  কবি রাজা কৃষ্ণরামের সেই হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেছেন, “সেইকালে গীত সাঙ্গ হইল আমার।” ১৬৯৬ খ্রীঃ অব্দে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।   সুতরাং দেখা যাচ্ছে যদুনাথ সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ধর্ম মঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন। অবশ্য নিজের কাব্যকে কবি সর্বত্র *‘আগমপুরাণ’* বলেছেন।  কবি ধর্মঠাকুরের মহিমা লিখতে বসলেও বৈষ্ণব ও শাক্তমতের প্রতিও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। খুব সংযত ও মার্জিত ভাষায় রচিত ‘আগমপুরাণে’...

সপ্তাদশ শতাব্দীর বা উত্তর-চৈতন্য যুগ-এর ধর্মমঙ্গল কাব্যের কয়েকজন কবির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

সপ্তাদশ শতাব্দীর বা উত্তর-চৈতন্য যুগ-এর ধর্মমঙ্গল কাব্যের কয়েকজন কবির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।। উঃ- ● মানিকরাম গাঙ্গুলি :– ইনি ধর্মমঙ্গলের বিশিষ্ট কবি হলেও এঁর আবির্ভাবকাল, গ্রন্থ রচনার সন তারিখ নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে পণ্ডিতদের অনুমান অষ্টাদশ শতাব্দীতে মানিকরাম কাব্য রচনা করেছিলেন। তাঁর কাব্যের নাম 'শ্রীধর্মমঙ্গল' বা 'বার্মাতি। কবি পুরাণ, রামায়ণ ও মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করেছেন। আদিরসের বাড়াবাড়ি থাকলেও রঞ্জাবতীর মাতৃহৃদয়ের ব্যথা-বেদনা বেশ সহৃদয়তার সঙ্গে চিত্রিত হয়েছে। তাঁর কাব্যের বাস্তবতা প্রশংসনীয়। • রামদাস আদক : – রামদাসের কাব্যের নাম ‘অনাদিমঙ্গল'। ইনি সপ্তদশ শতাব্দীর কবি। তার কাব্যে গ্রথিত আত্মবিবরণী থেকে জানা যায় ভুরসুট পরগনার রাজা প্রতাপনারায়ণের (কবি ভারতচন্দ্রের পূর্বপুরুষ) রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত আরামবাগের কাছাকাছি হায়াপুর গ্রামে কবি রামদাসের জন্ম। কবি জাতিতে কৈবর্ত হলেও পেশায় ছিলেন কৃষিজীবী। ১৫৮৪ শকাব্দে বা ১৬৬২ খ্রিস্টাব্দে কবির কাব্য সমাপ্ত হয়। কবির কবিত্বশক্তি প্রশংসনীয়। কাহিনি বয়নে, চরিত্র সৃষ্টিতে রচনা কৌশলের আধুনিকতায়, পৌরাণিক প্রসঙ্গের বর্ণনা...