উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর “টুনটুনির বই” -এর ‘নরহরি দাস’ গল্পে বাঘ ও শিয়ালের কিরুপ পরিণতি হয়েছিল বিষয়বস্তু অবলম্বনে লেখ।
• রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
উত্তর ঃ নরহরি দাস গল্পে আমরা দেখি যে একটি ছোট্ট ছাগলছানা গর্তের ভিতরে থাকতো সে বাইরে বের হতে পারত না। যখন সে একটু বড় হল তখন সে গর্তের বাইরে বেরোলো। তার সঙ্গে দেখা হলো এক মস্ত ষাঁড়-এর। ষাঁড়টিকে দেখে সে মনে করল ওটা একটা বড় ছাগল খুব ভালো জিনিস খেয়ে সে বড় হয়েছে। সে যাঁড়-এর কাছে গিৱে জিজ্ঞেস করল ষাঁড় কি খায়?— ষাঁড় উত্তরে জানায় সে ঘাস খায়। ছাগল বলে তার মাঙ ঘাস খায় কিন্তু তার মত এত বড় নয় কেন। তখন ষাঁড় বলল তার মায়ের থেকে সে অনেক বেশি ঘাস খায়।
ছাগলছানা তখন জানতে চায় সেই ঘাস কোথায় পাওয়া যায়। ষাঁড় তখন দেখায় বনের ভিতর ঘাস পাওয়া যায়। সেই বনের ভিতরে ষাঁড় ছাগল ছানা কে নিয়ে গেল। সেই বনের ভিতরে খুব চমৎকার ঘাস ছিল। ছাগলছানার পেটে যত ঘাস ধরল সে তত ঘাস খেলো। ঘাস খেয়ে তার পেট এমন ভারী হয়ে গেল সে আর চলতে পারল না। তখন সে বনের মধ্যে একটি গর্ত দেখতে পেয়ে তার ভেতর ঢুকে পড়লো। সেই গর্তে এক শিয়াল বসবাস করত সে তখন বাঘ মামার বাড়ি নিমন্ত্রণ খেতে গিয়েছিল। সে কিরে এসে দেখল গর্তের ভিতর কিরকম একটা জতু ঢুকে রয়েছে। অন্ধকারের ভেতর ভালো করে দেখতে পেল না। শিয়াল ভাবলো বুঝি রাক্ষস হবে। এই মনে করে সে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো গর্তের ভেতর কি আছে। ছাগলছানা ভারী বুদ্ধিমান ছিল সে তখন বলল
সিংহের মামা আমি নরহরি দাস
পঞ্চাশ বাগে মোর এক-এক গ্রাস!
এই কথা শুনে সেখান থেকে শিয়াল দিল একেবারে বাঘের ওখানে গিয়ে পৌঁছলো। শিয়ালকে হাঁপাতে দেখে বাঘ জিজ্ঞেস করল সে আবার ফিরে এলো কেন। তখ শেয়াল বলল তার গর্তে এক প্রকার প্রাণী এসেছে সে বলে কিনা পঞ্চাশ বাঘে তার এক গ্রাস।
এই কথা শুনে বাঘ ভয়ানক রেগে গেলেন সেই প্রাণীটিকে শায়েস্তা করার জন্য শিয়ালকে লেজে বেঁধে নিয়ে শিয়ালের গর্তে এসে হাজির হলো। শিয়াল কাকে বলেছিল তার সঙ্গে সে যেতে রাজি নয়। কারণ বাঘ লাফাতে পারে শিয়াল অত ভালো লাফাতে পারে না। তাই বাঘ এক লাফে পালাতে পারবে শিয়াল পারবে না তাকে ভয়ঙ্কর প্রাণী ধরে ফেলবে। সেই জন্য যখন দেখল বাঘটাকে নিজে বেঁধে নিয়ে যেতে চায় তখন সে আর বাধা দিল না। শিয়াল তখন ভাবলো এবার আর বাঘ মামা তাকে ফেলে পালাতে পারবে না। এরপর যখন তারা দুজনে শিয়ালের গর্তের কাছে এলো। ছাগল ছানা দূর থেকেই তাদের দেখতে পেয়ে বলল
দূর হতভাগা। তোকে দিলুম দশ বাঘের কড়ি
এক বাঘ নিয়ে এলি লেজে দিয়ে দড়ি!
এই কথা শুনে বাঘের প্রাণ ভয় উড়ে গেল। বাঘ মনে করলো নিশ্চয় শিয়াল তাকে দিয়ে নরহরি দাসকে খেতে দেবার জন্য এনেছে। তারপর সে সেখানে আর দাঁড়ালো না। সে পঁচিশ হাত লম্বা এক এক লাফে শিয়াল কে সুদ্ধ নিয়ে পালালো। ভীতসন্ত্রস্ত পলায়নরত বাঘের লেজে বাঁধা শেয়াল আছাড় খেয়ে খেয়ে মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। এমনি করে সারারাত ছুটোছুটি করে সারা হল। এইভাবে ছাগলের বুদ্ধির কাছে শিয়াল ও বাঘ পরাজিত হল। বুদ্ধি যস্য বলং তস্য এই প্রবাদকে সার্থক করে বাঘ বারবার কূটবুদ্ধি তো হেরে গেছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন